জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে কত পয়েন্ট লাগবে ২০২৬

২০২৫- ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) স্নাতক ( সম্মান) ও বিবি এ প্রথম বর্ষে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, তা হলো তাদের মাধ্যমিক (এসএসসি/সমমান) এবং উচ্চ মাধ্যমিক ( এইচএসসি/সমমান) পরীক্ষার ফল।

এই দুটি পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইউনিটে আবেদন করার প্রাথমিক সুযোগ পাবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ইউনিটের জন্য ন্যূনতম একটি মোট জিপিএ নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা আবেদনকারীকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে। এই ন্যূনতম জিপিএ হলো আবেদনের জন্য প্রথম এবং আবশ্যিক শর্ত।


​সাধারণত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি প্রধান ইউনিটে শিক্ষার্থীরা আবেদন করে থাকে: ইউনিট-A (বিজ্ঞান অনুষদ), ইউনিট-B (কলা অনুষদ), ইউনিট-C (বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ) এবং ইউনিট-D (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ)। এছাড়াও, চারুকলা অনুষদ, নাট্যকলা বিভাগ, এবং সঙ্গীত বিভাগে ভর্তির জন্য আলাদা শর্ত থাকে।


​ইউনিটভিত্তিক জিপিএ শর্তাবলী


​বিজ্ঞান শাখা এবং লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ সমন্বয়ে গঠিত ইউনিট-A এর জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ প্রাপ্ত মোট জিপিএ যোগফল ন্যূনতম ৭.৫০ (সাড়ে সাত) হতে হবে। এছাড়াও, উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩.২৫ জিপিএ অর্জন করা আবশ্যিক।


​অন্যদিকে, কলা ও আইন অনুষদ নিয়ে গঠিত ইউনিট-B এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ নিয়ে গঠিত ইউনিট-D-তে ভর্তির আবেদন করতে চাইলে মোট জিপিএ-এর যোগফল ন্যূনতম ৬.৫০ (সাড়ে ছয়) হতে হবে। এই দুটি ইউনিট যেহেতু মানবিক, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য সকল শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত, তাই সকল শাখার জন্যই এই শর্ত প্রযোজ্য। পৃথকভাবে প্রতিটি পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ চাওয়া হয় ৩.০০।


​বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ বা ইউনিট-C-এর ক্ষেত্রেও ইউনিট-B এবং D-এর অনুরূপ শর্ত থাকে; অর্থাৎ মোট জিপিএ ন্যূনতম ৬.৫০ (সাড়ে ছয়) এবং পৃথকভাবে প্রতিটি পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩.০০ জিপিএ থাকা আবশ্যক।


​এছাড়াও, চারুকলা অনুষদের মতো বিশেষায়িত বিভাগগুলোতে মোট জিপিএ কিছুটা শিথিল করা হয়, যা সাধারণত ন্যূনতম ৬.০০ (ছয়) থাকে এবং পৃথকভাবে ২.৫০ জিপিএ প্রয়োজন হয়। তবে, এই বিশেষায়িত বিভাগগুলোতে জিপিএ-এর পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষার (Practical Test) মাধ্যমে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হয়।


​আবেদন প্রক্রিয়া এবং ভর্তি পরীক্ষার গুরুত্ব


​শিক্ষার্থীদের মনে রাখা জরুরি যে, শুধু জিপিএ-এর শর্ত পূরণ করলেই ভর্তি নিশ্চিত হয় না। জিপিএ হলো শুধুমাত্র আবেদন করার যোগ্যতা অর্জন। আবেদন করার পর শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং তাতে ভালো ফলাফল অর্জন করে মেধা তালিকায় স্থান করে নিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার নম্বরই চূড়ান্ত ভর্তির জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


​জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র সাধারণত এইচএসসি-এর সিলেবাস অনুসরণ করে তৈরি করা হয়। এই পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং বা ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটার ব্যবস্থা কার্যকর থাকে।

প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য সাধারণত ০.২৫ নম্বর কাটা হয়, যা শিক্ষার্থীদের উত্তর দেওয়ার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে উৎসাহিত করে। ভর্তি সংক্রান্ত সকল তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় এবং সাধারণত নভেম্বর মাসের শেষ দিকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়।

Share this

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *